মুর্তজা বশীর: একজন ভাষা সৈনিক

 

রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই এই দাবিতে জীবন জীবনবাজী রেখে লড়াই করেছেনমাতৃভাষা রক্ষার দাবিতে পৃথিবীতে যে সকল আন্দোলন যাবতকালে সংগঠিত হয়েছে, তার মধ্যে বাঙ্গালীর ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারীর ভাষা আন্দোলন শ্রেষ্টতমযার কারণে ২১ ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মর্যাদায় ভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়

 

 

ভাষা সৈনিক মুর্তজা বশীরের জন্ম ১৯৩২ সালের ১৭ আগস্টতাদের আদি বাড়ি ছিল চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার পেয়ারা গ্রামেতার বাবা ছিলেন . মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ

মুর্তজা বশীরের পড়াশুনার হাতেখড়ি বাবার কাছেতিনি ১৯৪৯ সালে বগুড়া করনেশন ইন্সটিটিউট থেকে মেট্রিক পাশ করেনওই বছর তিনি ঢাকা আর্ট কলেজে ভর্তি হন

বগুড়া করনেশন ইন্সটিটিউট পড়াশুনাকালীন সময়ে তিনি ছাত্র ফেডারেশনের সদস্য হিসেবে বিভিন্ন আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হনএই সংগঠনের কর্মীরা রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে শুরু থেকে ভাষা আন্দোলনের সাথে যুক্ত থেকে সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করেন কারণে খুব স্বাভাবিকভাবেই তিনিও যুক্ত ছিলেন  ১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে, বগুড়া শহরে আন্দোলনের জন্য বেশ কয়েকটি মিছিল এবং মিটিং আয়োজনে হয়েছিল তাঁর নেতৃত্বে১৯৫০ সালে পাকিস্তান পুলিশ তার নামে মিথা মাললা মাস কারাগারে আটকে রাখে

১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারী রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকা ছিল উত্তাল আন্দোলন ছড়িয়ে গিয়েছিল সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, অফিস আদালতে এবং রাজপথের সবখানে৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারী ছিল রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সারা দেশে আন্দোলনের প্রস্তুতি দিবসওই দিন সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিমনেসিয়াম মাঠের পাশে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত) গেটের পাশে ছাত্র-ছাত্রীদের জমায়েত শুরু হতে থাকেসকাল ১১ টায় কাজী গোলাম মাহবুব, অলি আহাদ, আব্দুল মতিন, গাজীউল হক প্রমুখের উপস্থিতিতে ছাত্র-ছাত্রীদের সমাবেশ শুরু হয়

২০ ফেব্রুয়ারী পাকিস্থান সরকার ভাষা আন্দোলনের প্রস্তুতিকে তছনছ করে দেয়ার জন্য ঢাকাতে সমাবেশ, মিছিল-মিটিংযের উপর ১৪৪ ধারা জারি করে

মুর্তজা বশীর ২১শে ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমতলার মিটিং যোগ দিয়েছিলেনসকালের দিকে ১৪৪ ধারা ভংগের ব্যাপারে ছাত্র-রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেয়ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর . এস এম হোসেইন এর নেতৃত্বে কয়েকজন শিক্ষক সমাবেশ স্থলে যান এবং ১৪৪ ধারা ভংগ না করার জন্য ছাত্রদের অনুরোধ করেন

বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সময় ধরে উপস্থিত ছাত্রনেতাদের মধ্যে আব্দুল মতিন এবং গাজীউল হক ১৪৪ ধারা ভংগের পক্ষে মত দিলেও সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ ব্যাপারে কোন সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দিতে ব্যর্থ হন অবস্থায় বাংলার দামাল ছেলের দমনমূলক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ায়বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রাম পরিষদ ১১৪ ধারা ভঙ্গ করতে বদ্ধপরিকর ছিলসংগ্রাম পরিষদের সভায় আবদুল মতিন, অলি আহাদ গোলাম মওলা ১১৪ ধারা ভাঙ্গার পক্ষে ভোট দেনছাত্ররা ১০ জনে অসংখ্য দলে বিভক্ত হয়ে শৃঙ্খলার সঙ্গে ১১৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেয়উপস্থিত সাধারণ ছাত্ররা স্বত:স্ফূর্তভাবে ১৪৪ ধারা ভংগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং মিছিল নিয়ে পূর্ব বাংলা আইন পরিষদের (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের অন্তর্গত) দিকে যাবার উদ্যোগ নেয়অধিকার আদায়ের দাবিতে শত শত বিদ্রোহী কন্ঠে রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই এই দাবীতে আন্দোলোন তীব্র হয়ে উঠেপুলিশের সঙ্গে ছাত্র জনতার সংঘর্ষ হয়শ্লোগানে শ্লোগানে কেঁপে উঠে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যামপাসবুলেট আর লড়াই শুরু হয়পুলিশ লাঠিচার্জ এবং গুলি বর্ষণ শুরু করেগুলিতে ঘটনাস্থলেই আবুল বরকত (ঢাবি এর রাষ্ট্রবিজ্ঞান এর মাষ্টার্সের ছাত্র), রফিক উদ্দীন, এবং আব্দুল জব্বার নামের তিন তরুণ মারা যায়রফিক, জাব্বার, বরকত সহ নাম না জানা আরও অনেকের সাথে সালামও সেদিন গুলিবিদ্ধ হন 

© 2017. All Rights Reserved. Developed by AM Julash.

Please publish modules in offcanvas position.