কিম জোং ইল: এক কিংবদন্তী বিপ্লবী

 

 

মজার বিষয় হলো এই কিংবদন্তী বিপ্লবীকে অনেকে আবার জীবিত অবস্থায় মেরেও ফেলেছেনঅর্থাৎ অনেকে ধারণা করেন এই বিপ্লবী আর বেঁচে নেইতাই এদের মতো অনেক মানুষ  কিম জোং ইলকে নিয়ে নানা রকম বীরত্বের কথা বলেনএই বলাটা অবশ্য দোসের বিষয় নয় এরা হয়তো কারো কাছে এই কিংবদন্তী সম্পর্কে আংশিক শুনেছেন

যা-ই হোক, কিম জোং ইল একজন বিপ্লবীআর বিপ্লবী কখনো মরে নাসে জীবিত অবস্থায়ও বিপ্লবী, মারা যাওয়ার পর বিপ্লবীতার যৌক্তিক কারণ হলো-মানুষ বেঁচে থাকে তাঁর কৃতকর্ম ও সৃস্টিশীলতার মাধ্যমেকোনো সৃষ্টি ধবংস হয় নাসৃষ্টি যুক্ত হয় নতুন সৃষ্টির সাথেএভাবে সকল সৃষ্টি সভ্যতাকে সমৃদ্ধ করেযার কারণে সভ্যতার চাকা সবসময় সামনের দিকে অগ্রসর হয়অনেকে মানুষ আর বিপ্লবী এই শব্দ দুটির মধ্যে পার্থক্য টানেনকেউ কেউ এই শব্দ দুটিকে ভিন্ন ভিন্ন দুটি বিষয় বলেনআবার কেউ কেউ সমার্থক বলেও মত দেনতবে সরদার ফজলুল করিমের মতে--একজন মানুষ সবসময়ই কমিউনিস্ট এবং বিপ্লবীকারণ কমিউনিস্ট বা বিপ্লবী সেই হতে পারে, যে মানুষ হয়ে উঠে বা মানুষ হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকেসে মানুষ কখনো কোনো অসঙ্গতি, অসাম্য, শোষণ-বৈষম্য মেনে নিতে পারে নাসে প্রতিনিয়ত লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মানুষের সমাজ, মানুষের পৃথিবী গড়ার তোলার জন্য জীবনপণ সংগ্রাম করে যায়

এমনই একজন আজীবন বিপ্লবী কমরেড কিম জোং ইলতাঁর জন্ম ১৯৪২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারীচীন-উত্তর কোরিয়া সীমান্ত অঞ্চলে১৯৫০-৬০ সাল পর্যন্ত তিনি পিয়ংইয়ংয়ের লাল পতাকা মানসুদায়ে বিপ্লব একাডেমি ও পিয়ংইয়ংয়ের একটি হাই স্কুলে খেলাপড়া করেন১৯৬৪ সালে তিনি কিম ইল-সাং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনীতি বিভাগে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন

১৯৬৪ সালের জুন থেকে ১৯৪৭ সালের ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত, কিম জোং ইল যথাক্রমে উত্তর কোরিয়ার শ্রমিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির একটি বিভাগের পরিচালক, উপমন্ত্রী, মন্ত্রী, সম্পাদক ও রাজনৈতিক কমিটির কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন১৯৮০ সালের অক্টোবর থেকে তিনি যথাক্রমে উত্তর কোরিয়ার শ্রমিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর স্ট্যাডিং কিমিটির সদস্য, সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সামরিক কমিটির সদস্য ছিলেন১৯৮২ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ গণ সম্মেলনের প্রতিনিধি ছিলেন১৯৯০ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৯৩ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তিনি যথাক্রমে উত্তর কোরিয়ার গণবাহিনীর সেনাপতি, প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন১৯৯৪ সালের জুলাই মাসে কিম ইল-সাং মারা যাওয়ার পর কিম জোং ইল ১৯৯৭ সালের অক্টোবর মাসে উত্তর কোরিয়ার শ্রমিক পার্টির সম্পাদক পদে নিযুক্ত হন১৯৯৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি প্রতিরক্ষ কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন

তিনি ১৯৭৫ ও ১৯৮২ সালে দুবার তিনি প্রজাতন্ত্রের বীরেরমর্যাদা পান১৯৯২ সালের এপ্রিল তিনি উত্তর কোরিয়ার গণ প্রজাতন্ত্রের মার্শালের মর্যাদা অর্জন করেনতিনি তিন বার কিম ইল সাং পদক ও কিম ইল সাং পুরস্কারসহ বহু পুরস্কার অর্জন করেন তিনি বর্তমানে উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট

 

 

© 2017. All Rights Reserved. Developed by AM Julash.

Please publish modules in offcanvas position.