বিপ্লবের মৃত্যু নেই-চে

 

এই ক্ষণজন্মা বিপ্লবীর জন্ম আর্জেন্টিনার গোমারিও শহরেবাবা গুয়েভারা লিঞ্চমা মেরিলা মেনাপড়াশুনার হাতেখড়ি পরিবারেতারপর বুয়েন্স আয়ার্সের ন্যাশনাল মেডিকেল স্কুল এবং কলেজপড়াশুনা শেষে রক্ত বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হন কিন্তু এই ডাক্তারের রক্তে এবং চেতনায় ঢুকে যায় মার্ক্সবাদের মন্ত্রযার ফলে চেতনায় ঘুরপাক খেতে থাকে শোষিত মানুষের প্রতিচ্ছবিসারাক্ষণ অস্থির কিছু একটা করতে হবে এদের জন্য

 

 

তাই ছুটে যান নিরন্ন-অনাহারী মানুষের কাছে দিনের পর দিনমাসের পর মাসএভাবে পার হয়ে যায় বছরশোষিত মানুষের মুক্তির জন্য বিপ্লবের নেশায় পাগল হয়ে ওঠেন তিনিবন্ধু চিচিনার দেয়া ১৫ ডলার ও বন্ধু আলবার্তোকে সঙ্গে নিয়ে জরাজীর্ণ মোটর সাইকেলে চড়ে আর্জেন্টিনার ক্ষুদ্র গণ্ডি পেরিয়ে ঘুরে বেড়ান ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশেউদ্দেশ্য একটাই_ বিপ্লবপ্রত্যক্ষ করেন সেখানকার বাস্তবতা
ঘুরে বেড়ান পেরু, ভেনিজুয়েলা, পানামা, ইকুয়েডর, মেক্সিকো, কঙ্গো, উগান্ডা, কেনিয়া, তাঞ্জানিয়া ও কিউবাসহ আরো অনেক দেশেএসব দেশে তিনি বিপ্লবী তৈরী ও বিপ্লব সংগঠিত করার জন্য বিপ্লবী কর্মীদের গেরিলা প্রশিক্ষণ দেন১৯৫৩ সালে তিনি গুয়েতেমালার সরকার প্রধান জ্যাকোবা আরচেঞ্জের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সে দেশে যানজ্যাকোবা আরচেঞ্জ ছিলেন আরেক বিপ্লবীএ সময় বিপ্লবী কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুবিধার জন্য ছদ্মনাম নেন_চেএই নামেই তিনি আজ বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছেনদেশে দেশে বিপ্লবের নেশায় এক পর্যায় চে মেক্সিকোতে চলে যান১৯৫৪-৫৫ সাল পর্যন্ত চে নিজেকে ও বিপ্লবকে বাচিয়ে রাখতে সব ধরনের কষ্ট সহ্য করে টিকে থেকেছেন১৯৫৫ সালে মেক্সিকোতে ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে চের সাক্ষাত হয়দুই বিপ্লবী বেশ কিছুদিন যাবৎ সমাজ বাস্তবতা বিশ্লেষণ করে মনস্থির করলেন বিপ্লবের কোনো বিকল্প নেইবিপ্লবের জন্য প্রথম নিশানা ঠিক হলো কিউবাচে-ফিদেল বাহিনী কিউবায় অবস্থান নিল গেরিলা যুদ্ধ শুরু হলোযুদ্ধ পরিচালনার নৈপুন্য- পারদর্শিতার কারণে চে’-কে সবাই সামরিক বাহিনীর অধিনায়ক বানিয়েছিল

৮২ জন বিপ্লবী বহন করে নেয়া গ্রানামানৌযানটি কিউবার মাটি স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে বাতিস্তা সরকারের হাজার হাজার সেনাবাহিনীর মুখোমুখি হনঅর্থাৎ বাতিস্তা সরকার গোপনে খবর পেয়েছিল এ রকম একটা ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে৩ দিনের মধ্যে বিপ্লবীদের ৬০ সশস্ত্র সংগ্রামে শহীদ হনবন্দী হন ৪ জনচেআহত হয়যোদ্ধারা কিউবার সিয়েরো সায়েস্ত্রি পাহাড়ে আত্মগোপন করেনএখানে নতুন করে স্থাপিত হলো বিপ্লবী ঘাটিগেরিলা সৈন্য সংগ্রহ ও প্রশিক্ষণ চলতে থাকলোএ সময় কিউবার অসংখ্য তরুণ মার্ক্সবাদী মন্ত্রে দীক্ষা নিয়ে ফিদেল-চে বাহিনীতে যোগ দিয়ে সশস্ত্র সংগ্রাম চালায়গেরিলা বাহিনী স্বৈরাচারী সরকারের ভিঁত তছনছ করে দেয়কিউবার সকল মানুষ ফিদেল-চে বাহিনীকে সমর্থন দিল১৯৫৯ সালের ২ জানুয়ারী চে’- বাহিনী রাজধানী হাভানা দখল করেকিউবায় প্রতিষ্ঠিত হয় সমাজতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাপ্রেসিডেন্ট হলেন ফিদেলচে’-কে প্রথমে শিল্প মন্ত্রণালয় এবং পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট পদ দেয়া হয় দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন তিনি
কিছু দিন পর চের চেতনায় ভেসে উঠলো শোষিত মানুষের প্রতিচ্ছবিমনে মনে সিদান্ত নিলেন রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য আমার জন্ম হয়নিপুনরায় বিপ্লবের নেশায়, মানুষের মুক্তির নেশায় সাম্রাজ্যবাদকে কবর দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিলেনবিদায় নিলেন কিউবা থেকে
হে বন্ধু আমার, কমরেডগণ ও কিউবার সকল মানুষ_বিদায়! পার্টির জাতীয় নেতৃত্ব ও আমার রাষ্ট্রীয় সকল পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিচ্ছিত্যাগ করছি আমার মন্ত্রীত্ব, মেজর পদ ও কিউবার নাগরিকত্বতুমি (ফিদেল) আমার স্ত্রী-কন্যাদের দেখোবিপ্লবী অভিনন্দনসহ---চে
চলে যান লুলুম্বার দেশ কঙ্গোতেপ্রতিকুল পরিবেশ দেখে সেখান থেকে চলে যান বলিভিয়ায়১৯৬৫ সালে বলিভিয়ায় শুরু করেন বিপ্লবী কর্মকাণ্ডধীরে ধীরে গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে বলিভিয়ার স্বৈরাচার সরকারের ভিঁত কাপিয়ে দেন কাজে বলিভিয়ার কমিউনিষ্ট পার্টি তাঁকে সহযোগীতা করেনিমার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা বলিভিয়ার জঙ্গলে হন্যে হয়ে খুঁজছে১৯৬৭ সালের ৮ অক্টোবর বলিভিয়ার ইউরো উপত্যকায় চে’-সহ ১৬ জন বিপ্লবীকে চতুর্দিক থেকে ঘিরে ফেলেপ্রায় সহস্ত্র সৈন্যের সাথে দীর্ঘ ৮ ঘন্টা যুদ্ধ করে পরাস্ত হয়তার পর রাত ১টা ৩০ মিনিটে মারিও তোয়ান ১০ টি গুলির আঘাতে চে’-কে নির্মমভাবে হত্যা করে

লাল সালাম কমরেড চে

জয়তু কমরেড চে

© 2017. All Rights Reserved. Developed by AM Julash.

Please publish modules in offcanvas position.