সাংবাদিক সন্তোষ গুপ্ত

সাংবাদিক পেশায় যোগ দেন ১৯৫৭ সালেসন্তোষ গুপ্ত 'সংবাদ' ও দৈনিক আজাদে সাংবাদিকতা করলেও দেশের সব জাতীয় দৈনিকে তার বিভিন্ন বিষয়ে প্রবন্ধ, কলাম ও সমালোচনামূলক নিবন্ধ ছাপা হয়েছেতিনি একাধারে কবি, চিত্র সমালোচক ও প্রবন্ধকার ছিলেনজীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি দৈনিক সংবাদের সিনিয়র সহকারী সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন

সাংবাদিকতা জীবনের আগে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেনতার দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি দৈনিক আজাদ এবং দৈনিক সংবাদে কাজ করেছেনসন্তোষ গুপ্ত শিক্ষাজীবন শেষে কলকাতায় আইজি অব প্রিজন্স অফিসে কাজ নেনদেশভাগের পর তিনি পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেনরাজনৈতিক কারণে তাকে একাধিকবার জেলেও যেতে হয়েছিল১৯৭১ সালে সন্তোষ গুপ্ত প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য বিভাগে কর্মরত ছিলেন

সাংবাদিকতা, কবিতা, শিল্প, সাহিত্য, রাজনীতি, চিত্রকলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সন্তোষ গুপ্তের ১৫টি গ্রন্থ রয়েছেএ ছাড়া তিনি সম্পাদনা করেছেন তিনটি গ্রন্থবাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার সঙ্গে শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন তাকে সব্যসাচী লেখক হিসেবে পরিচিত করেছেরবীন্দ্রনাথ, বঙ্গবন্ধু, পিকাসো, জয়নুল, অমিয় চক্রবর্তী, শামসুর রাহমানসহ সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র সবই ছিল তার লেখার বিষয়বস্তু

সাংবাদিকতা ও সাহিত্যে অবদান রাখার জন্য তিনি একুশে পদক, শেরেবাংলা পদক, মাওলানা তর্কবাগীশ পদক, জহর হোসেন স্মৃতি পদকসহ বহু পদক ও সম্মাননা পেয়েছেন২০০৪ সালের ৬ আগস্ট মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে তিনি মারা যান

প্রতিবছর প্রথিতযশা সাংবাদিক সন্তোষ গুপ্তের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পোস্তগোলা শ্মশানঘাটে তার স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়স্মৃতিস্তম্ভটি চিত্রশিল্পী কালিদাস কর্মকারের পরিকল্পনা ও স্থপতি রবিউল হুসাইনের স্থাপত্য নকশায় শিল্পী ইমতিয়াজ নুর নির্মাণ করেন

© 2017. All Rights Reserved. Developed by AM Julash.

Please publish modules in offcanvas position.