বিপ্লবী কানু সান্যাল : তারেক আহমেদ

কানু সান্যাল চলে গেলেনতার এই চলে যাওয়াকে এক ধরনের স্বেচ্ছামৃত্যুও বলা যায়পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, শিলিগুড়ীর নকশালবাড়ী অঞ্চলে গ্রমের বাড়ীতে তার দেহটি ঘরের কড়িকাঠে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছেসেই নকশাল বাড়ী,– যা  কানু সান্যাল আর তার সহযোদ্ধা চারু মজুমদারকে কিংবদন্তীতে পরিনত করেছিলশুধুমাত্র পশ্চিম বঙ্গ বা ভারত নয়, বাংলদেশেও একটা সময় গেছে, যখন হাজার হাজার তরুনের স্বপ্ন ছিল নকশালবাড়ীর মতো বিপ্লবে উদ্বুদ্ধ হওয়াআর তাদের সেই…

বিস্তারিত

বিপ্লবী উল্লাসকর দত্ত: শেখ রফিক

১৯০৮ সাল১লা মে, ওয়ার্নি স্টেশন থেকে গ্রেফ্তার করা হল ক্ষুদিরাম বসুকেব্রিটিশ প্রশাসনের হাই-কমান্ড কলকাতার পুলিশ বাহিনীকে নির্দেশ দিল ক্ষুদিরামপ্রফুল্ল চাকীর সাথে জড়িত সকলকে গ্রেফতার করার জন্য ২ মে কলকাতার ব্রিটিশ প্রশাসনের পুলিশ আটটি স্থানে খানা-তল্লাশি চালায় কলকাতার মুরারিপুকুরের বাগানবাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হল বারীন্দ্রকুমার ঘোষ, উপেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, উল্লাসকর দত্ত ও নলিনীকান্ত গুপ্তসহ ১৪ জনকে।…

বিস্তারিত

বিস্মৃত-প্রায় মনীষী ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত : যতীন সরকার

লোকে জানে তাকে স্বদেশী যুগের অন্যতম যুগান্তর সাধক ও বিপ্লবী প্রবর্তক বলে। ভূপেন দত্ত একদিকে কট্টর মাৎসিনিপন্থি, অপরদিকে কট্টর মার্কসপন্থি। অধিকন্তু তিনি আবার নৃতত্ত্ব-শাস্ত্রী এবং সমাজ-সেবকও বটে

দেশের ঐতিহ্যের সঙ্গে আমাদের সংলগ্ন থাকতেই হবে। ঐতিহ্যের পুনরাবর্তন নয়, চাই ঐতিহ্যের সমপ্রসারণ ও নবায়ন। এ কাজে সংবাদপত্রও বিশেষ অবদান রাখতে পারে। সংবাদপত্রের শুধু প্রাত্যহিক সংবাদ পরিবেশনের মধ্যেই সীমিত থাকা উচিত নয়। সমকালীন সংবাদ ও সংবাদভাষ্যের সঙ্গে সঙ্গেই পাঠককে ঐতিহ্য-সচেতন করে তোলাও সংবাদপত্রের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।…

বিস্তারিত

বিপ্লবী ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তী: শেখ রফিক

বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম ও আন্দোলন করার কারণে ২৭ বছর জেলখানায় বসবাস করে দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা পৃথিবীর সব মানুষের হৃদয় কেড়ে নিয়েছেনঅথচ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন করে ৩৪ বছর জেলখানায় জীবন অতিবাহিত করা ময়মনসিংহের ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তীকে (মহারাজ চক্রবর্তী) এখন আর এদেশের কেউ চেনেই না! মহারাজ ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তীকে ব্রিটিশ মাথা নত করাতে পারেনি১৯৬৭ সালে তাঁর লিখিত গ্রন্থ 'জেলে তিরিশ বছর ও পাক-ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম' প্রকাশিত হয়েছিলতিনি এ বইয়ের ভূমিকায় লিখেছিলেন, 'পৃথিবীতে সম্ভবত আমিই রাজনৈতিক আন্দোলন করার কারণে সর্বাধিক সময় জেলখানায় অতিবাহিত করেছিমাঝখানে দু-এক মাস বিরতি ছাড়া আমি টানা ৩০ বছর জেলখানায় কাটিয়েছি।'…

বিস্তারিত

বিপ্লবী রাসিমণি: শেখ রফিক

টংক আন্দোলন ব্রিটিশ-ভারতের সর্বশেষ গণআন্দোলন। বৃহত্তর ময়মনসিংহ এলাকার গারো পাহাড়ের পাদদেশে সুসংদুর্গাপুর এলাকায় সংগঠিত হয়েছিল টংক আন্দোলন। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে এই টঙ্ক আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে এই আন্দোলনে নারী-পুরুষ-শিশুসহ ৬০জন মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে। কৃষকদের শতশত বাড়ি-ঘর ধুলিসাৎ ও গ্রাম পুড়িয়ে ছারখার করা হয়েছে। পাকিস্তান আমলেও বেশ কিছুদিন এই আন্দোলন অব্যহত ছিল। টংক আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন সুসং-দূর্গাপুরের জমিদার সন্তান মণি সিংহ। এ আন্দোলন সংগঠিত করেন আদিবাসী হাজং জনগোষ্ঠী টংক আন্দোলনের কারণে ব্রিটিশ আমলে তাকে কয়েক বার জেলে যেতে হয়। পাকিস্তানে আমলে মুসলিম লীগ সরকার মণি সিংহের বাড়ি ভেঙ্গে ভিটায় হালচাষ করায় এবং তাঁর স্থাবর সম্পত্তি নিলাম করে দেয়টংক আন্দোলনে যে সমস্ত লড়াকু শহীদ হন, তাদের মধ্যে রাসিমণি অন্যতম। তিনিই টংক আন্দোলনের প্রথম শহীদ। তিনি টংক ও কৃষক আন্দোলনের অন্যতম নেত্রীও ছিলেন টংক আন্দোলনে মণি সিংহের পর যার নাম চলে আসে তিনি হলেন রাসিমণি। তারপর কুমুদিনী হাজং।…

বিস্তারিত

বিপ্লবী মুকুল সেন : শেখ রফিক

অদম্য উদ্যম আর প্রচণ্ড সাহস বুকে ধারণ করে ভারতমাতাকে স্বাধীন করার জন্য সেই অগ্নিযুগে কিছু মুক্তি-পাগল মানুষ জীবন-মৃত্যুকে পায়ের ভৃত্য করে এগিয়ে এসেছিলেন তাদেরর সঙ্গে সেদিন সামিল হয়েছিলেন বরিশালের মুকুল সেন। দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য যে সশস্ত্র বিপ্লববাদী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারতমাতা স্বাধীন হয়, সেই ইতিহাসে যে সকল বিপ্লবী রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে মুকুল সেন অন্যতম।…

বিস্তারিত

অরবিন্দ ঘোষ: শেখ রফিক

স্বদেশের স্বাধীনতা অর্জনের কারণে ডাকাতি করায় কোনো নৈতিক অপরাধ হয় না---অরবিন্দ ঘোষ।

১৯০৬ সাল। বিপ্লবী অগ্নিযুগের যাত্রা বলা চলে। সরাসরি ব্রিটিশ শাসন-শোষণ ও অন্যায়-অথ্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। যে প্রতিবাদের শুরুটা করেছিলেন বীর সৈনিক মঙ্গলপাণ্ডে ১৮৫৭ সালে। তারপর এই উপমহাদেশের মানুষ নানা চড়াই-উৎরাই পার হয়ে বিংশশতাব্দীর শুরু থেকে সংঘবদ্ধভাবে ব্রিটিশ শাসন উচ্ছেদের জন্য লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার জন্য সংঘবদ্ধ হতে থাকে। অগ্নিযুগের শুরুতে ভারতমাতার অনেক অগ্নিসন্তান ব্রিটিশ শাসন অবসানের জন্য অগ্নিশপথ নিয়েছিলেন।…

বিস্তারিত

বাদল গুপ্ত: শেখ রফিক

জন্ম থেকে মৃত্যু এই চলার পথটির নামই জীবন। কিন্তু সব জীবন অর্থবহ হয় না। সবার জীবন নিয়ে জীবনী হয় না, তাই ইতিহাস, তাদের ধরেও রাখে না। ইতিহাস ধরে রাখে শুধু তাদেরই, যারা হয়ে ওঠেন বিশিষ্ট ও অনন্য-অসাধারণ জীবনের অধিকারীযে জীবনকে সবাই শ্রদ্ধা করে। আবার অনেকে অনুকরণ-অনুস্মরণ করার চেষ্ঠা করে। এমন জীবন শুধু জন্মসূত্রে পাওয়া যায়না; এটা অর্জন করতে হয়, তৈরী করতে হয় কঠোর শ্রম, গভীর নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগ দিয়ে। এর জন্য তৈরী কোনো পথ নেই, পথ তৈরী করে করে এগোতে হয়। সেক্ষেত্রে প্রেরণা হয়ে পথ দেখায় এক মহৎ জীবনবোধ, আদর্শবোধ ও দেশপ্রেম দেশমাতৃকাকে স্বাধীন করার মহান আদর্শে দীক্ষিত এমনি কিছু মুক্তি-পাগল মানুষ জীবন-মৃত্যুকে পায়ের ভৃত্যকরে সেদিন এগিয়ে এসেছিলেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের কাফেলায়। অনেকের সঙ্গে সংগ্রামের কাফেলায় সামিল হয়েছিলেন বিপ্লবী বাদল গুপ্ত।…

বিস্তারিত

কমরেড মণি সিংহ: শেখ রফিক

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান কমরেড মণি সিংহ’ কে তার বাড়ি-ভিটা ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। এর উত্তরে কমরেড মণি সিংহ বলেছিলেন, “টংক আন্দোলন ও বাংলাদেশের মুক্তি আন্দোলনে লক্ষ লক্ষ মানুষ তার প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে এবং তাদের বাড়ি ঘর উচ্ছেদ হয়েছে। যতদিন পর্যন্ত এই দেশের প্রতিটি মানুষের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান-শিক্ষা-চিকিৎসা ও কর্মসংস্থান না হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত আমার বাড়ি-ভিটা ফিরিয়ে নেয়ার প্রশ্ন উঠতে পারে না। যে দিন সবার ব্যবস্থা হবে সেদিন আমারও ব্যবস্থা হবে।”…

বিস্তারিত

চিত্তরঞ্জন দাশ: শেখ রফিক

কৃষক নেতা জিতেন ঘোষের রচনা সমগ্রতিনি লিখেছেন, দেশবন্ধু (চিত্তরঞ্জন দাশ) ময়মনসিংহ যাবেন। কর্মীরা তাঁকে প্রথম শ্রেণীর কামরায় নিয়ে যেতে চাচ্ছেন শুনে তিনি হেসে বললেন, আমি তো ভাই আর পঞ্চাশ হাজারী ব্যারিস্টার সি আর দাশ নই। কোনো মামলাও পরিচালনা করতে যাচ্ছি না। যাচ্ছি দেশের জনগণের কাছে তাঁদের সেবা করার উদ্দেশ্য নিয়ে। তাঁরা তো তৃতীয় শ্রেণীতেই চড়েন।…

বিস্তারিত
© 2017. All Rights Reserved. Developed by AM Julash.

Please publish modules in offcanvas position.