শরদীশ রায়

তাঁর ঠাকুরদা জমিদারী সামলানোর সাথে সাথে লেখাপড়া শিখে উকিল হয়েছিলেন। তাঁর ঠাকুরদার এক ভাই সেই যুগে ডাক্তারি পড়তে বিলেত গিয়েছিলেন। ফেরেন নি। কলকাতায় বসবাস করতেন এবং সেখানে প্রবাসী বিপ্লবীদের সাথে তাঁর যোগাযোগ ছিল। আর এক ভাই রায় সাহেব উপাধি পেয়ে অনারারি ম্যাজিস্ট্রেট হয়েছিলেন এবং ১৯২১ সালে গঠিত প্রথম ইউনিয়ন বোর্ডের মনোনীন প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন।
শিক্ষা, স্বচ্ছলতা এবং প্রতিষ্ঠার এই পারিবারিক পরিবেশে জন্ম নেওয়া শরদীশ রায়ের লেখাপড়া শুরু হয় বিহারের সাঁওতাল পরগনার আমজোড়া হাই স্কুলে। থাকতেন ছাত্রাবাসে। দেশে তখন বেজে উঠেছে আইন অমান্য আন্দোলনের ভেরী। সেই ভেরীর নিদান শুনে আইন অমান্য করে জেলে গিয়েছিলেন ১৪ বছরের কিশোর শরদীশ রায়। এই ‘রাষ্ট্র বিরোধী’ ছাত্রকে বহিষ্কার করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। চলে আসেন সিউড়ি। ভর্তি হন বেণীমাধব ইনস্টিটিউশনে। এখানে স্কুল শিক্ষা শেষ করে বর্ধমান রাজ কলেজে ইন্টার মিডিয়েট পড়েন। এরপর বর্ধমান মেডিক্যাল স্কুল থেকে এল এম এফ কোর্স শেষ করে ডাক্তার হয়ে ফেরেন নিজের জেলা বীরভূমে।
বর্ধমানে পড়ার সময়েই রাজনীতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক দৃঢ় হয়। ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিয়ে কমিউনিস্ট পার্টির সংস্পর্শে এলেও তখনকার দিনের আরও অনেকের মতো জাতীয় কংগ্রেসের অভ্যন্তরে থেকেই কাজ করতেন। বর্ধমান জেলা কংগ্রেসের সহ সম্পাদকও তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
শরদীশ রায় ১৯৪২ সালে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য পদ অর্জন করেন। ১৯৬৪-তে পার্টি ভাগ হলে তিনি সি পি আই (এম) বীরভূম জেলা কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন। রায় ১৯৩১, ১৯৪৯ এবং ১৯৬৫ সালে কারারুদ্ধ হন। ১৯৮৪ সালের জানুয়ারি থেকে ১৯৮৫ সালের ৬ মার্চ পর্যন্ত তিনি সাময়িকভাবে পার্টির জেলা কমিটির সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। সেই সময় তিনি রাজ্য কমিটিরও সদস্য ছিলেন।
১৯৬২ সালে বর্ধমান ও বীরভূম জেলার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে গঠিত কাটোয়া লোকসভা কেন্দ্র থেকে তিনি প্রথম লোকসভায় নির্বাচিত হন। বিশ্বভারতীর বিদ্যাভবনের অধ্যক্ষ, কেন্দ্রীয় সরকারের উপমন্ত্রী কংগ্রেস প্রার্থী অনিল কুমার চন্দ-কে পরাস্ত করে তাঁর সেই বিজয় বীরভূমে বামপন্থী রাজনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ পালন করে ছিল। পরবর্তীতে কেন্দ্র ভাঙাগড়া হয়ে বোলপুর কেন্দ্র হলে ১৯৬৭ থেকে ১৯৮৪ পর্যন্ত তিনি বোলপুর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং ১৯৬৭ ছাড়া প্রতিবারেই নির্বাচিত হন। ১৯৮৪-তে অষ্টম লোকসভা নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর তিনি লোকসভায় সি পি আই (এম) সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হন।
১৯৮৫-র ৫ মে দিল্লির একটি হাসপাতালে তার জীবনাবসান হয়।

© 2017. All Rights Reserved. Developed by AM Julash.

Please publish modules in offcanvas position.