মহম্মদ ইসমাইল

altজন্ম ১৯১২। উত্তর প্রদেশের উন্নাও জেলার রঞ্জিৎপুরা গ্রামের এক ভূমিহীন কৃষক পরিবারে। বাবা শেখ মহম্মদ।
মাত্র ছ’বছর বয়সে পিতৃহারা ইসমাইল ১১ বছর বয়সে চলে আসেন কলকাতায়। ছাত্র অবস্থাতেই কাজ নিতে হয় ইংরেজ মালিকের কারখানায়। মালিকের শোষণের বিরুদ্ধে চেতনার উন্মেষ সেখানেই। এই চেতনাই তাঁকে সামিল করে দেয় শ্রমিক-রাজনৈতিক-স্বাধীনতা আন্দোলনের মঞ্চে। ম্যাট্রিক পাশের পরেই ইতি ঘটে যায় প্রতাগত শিক্ষার। খিলাফত আন্দোলনে নিজেকে যুক্ত করে মাত্র ১৮ বছর বয়সে কারারুদ্ধ হন। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াইয়ের পীঠস্থান কলকাতাই যে তাঁর ভবিষ্যত জীবন নির্ধারন করে দেবে- সে সিদ্ধান্তে ততদিনে উপনীত হয়ে গেছেন। জেলে বসে মাতৃভাসা উর্দু ছাড়াও খুব ভালোভাবে শেখেন বাংলা এবং হিন্দি ভাষা।
১৯৩৫ সাল পর্যন্ত ইসমাইল যুক্ত ছিলেন জাতীয় কংগ্রেসের মতাদর্শের সাথে। থাকতেন ৪১ নং জাকারিয়া স্ট্রিটে। সেখানেই থাকতেন আব্দুল হালিম। ইসমাইল তাঁর সংস্পর্শে এসে কমিউনিস্ট ভাবধারায় আকৃষ্ট হন এবং ওই বছরেই কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ অর্জন করেন। পার্টির নির্দেশে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠিত করা এবং কংগ্রেসের মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশ নিতে থাকেন।
১৯৩৯ সালে তিনি বেঙ্গল প্রভিন্সিয়াল কংগ্রেস কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন এবং বাংলার প্রতিনিধি হিসাবে হরিপুরা কংগ্রেসে যোগ দেন। সেখান থেকে এ আই সি সি-র সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হন। একই সময়ে কমিউনিস্ট পার্টির পরিচালনায় কলকাতা থেকে প্রকাশিত উর্দু সাপ্তাহিক ‘রফীক’ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
মহম্মদ ইসমাইল ১৯৩৫ সালেই এ আই টি ইউ সি-র ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৫৭ তে হন এ আই টি ইউ সি-র সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি। ১৯৭০ পর্যন্ত এই পদে থাকেন এবং সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে তীব্র লড়াই পরিচালনা করে শ্রমিক আন্দোলনকে বিপ্লবী রাজনৈতিক আন্দোলনের রূপদানে সচেষ্ট থাকেন। ১৯৭০-এ সি আই টি ইউ গঠিত হলে তিনি সি আই টি ইউ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সভাপতি এবং ১৯৭১-এ এই সংগঠনের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি নির্বাচিত হন। আমৃত্যু তিনি এই পদে ছিলেন।
মহম্মদ ইসমাইল ১৯৪৪ সালে কমিউনিস্ট প্রার্থী হিসাবে শ্রমিক কেন্দ্র থেকে ক্যালকাটা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ১৯৬৭তে বারাকপুর কেন্দ্র থেকে লোকসভায় নির্বাচিত হন। পরে আরও দু’বার ওই কেন্দ্র থেকে লোকসভায় নির্বাচিত হলেও ১৯৫৭-র বিধানসভা নির্বাচনে বউবাজার কেন্দ্রে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ডা. বিদানচন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতা আজও ইতিহাস হয়ে আছে। ওই নির্বাচনে তিনি মাত্র ৫৪০ ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন।
১৯৪৮ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় কংগ্রেস থেকে মহম্মদ ইসমাইল কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৫০-এ তদানিন্তন বাংলা প্রাদেশিক কমিটি ভেঙ্গে নতুন কমিটি হলে তিনি তার সম্পাদক হন। ১৯৬৪ তে সি পি আই (এম) গঠিত হলে তিনি সি পি আই (এম)-এর রাজ্য কমিটির সদস্য হন। মৃত্যুর দিন পর্যন্ত তিনি সি পি আই (এম) রাজ্য কমিটির সদস্য ছিলেন।
ট্রাম শ্রমিক, রেল শ্রমিক এবং চটকল শ্রকিদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে মহম্মদ ইসমাইল অসামান্য ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৩৮ থেকে আমৃত্যু তিনি ট্রাম ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। দীর্ঘদিন ছিলেন বেঙ্গল-আসাম রেলওয়ে ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি।
১৯৯০-এর ১৪ নভেম্বর তাঁর জীবনাবসান হয়।

© 2017. All Rights Reserved. Developed by AM Julash.

Please publish modules in offcanvas position.